অন্য চোখে

মেহেদী হাসান (১৬), বরিশাল

Published: 2017-04-02 21:31:28.0 BdST

বইয়ে পড়েছি, ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল। কিন্তু বরিশালের মানুষ হিসাবে জানি, এই তিন ছাড়াও জেলাটি কত সমৃদ্ধ। এর আছে নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এখানে জন্মেছেন শের-ই-বাংলা ফজলুল হকের মতো মানুষ। কীর্তনখোলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহরের আগের নাম ছিল চন্দ্রদ্বীপ। দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনের একটি মূল উৎস এই বৃহত্তর বরিশাল। একে বাংলার 'ভেনিস' বলা হয়।

বরিশালের তেমনি একটি ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’। আগে এই পার্কের নাম ছিল ‘বেল’স পার্ক’।

১৮৯৬ সালে বৃটিশ শাসনামলে নিকোলাস বিটসন বেল বাকেরগঞ্জে (বর্তমানে বরিশাল) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজে যোগ দেন। তিনি ছিলেন ভারত দরদি বৃটিশ নাগরিক। বরিশালের জন্য তিনি অনেক কল্যাণকর কাজ করে স্মরণীয় হয়ে আছেন। 

তৎকালীন সমাজসেবক খান বাহাদুর হেমায়েত উদ্দিনের প্রসহযোগিতায় তিনি বরিশালে মুসলিম ছাত্রদের জন্য নির্মাণ করেন বেল ইসলামিয়া হোস্টেল। তরুণদের খেলার জন্য একটি পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। পরে পার্কটির নামকরণ করা হয় বেল'স পার্ক। বর্তমান নাম বঙ্গবন্ধু পার্ক।

জনশ্রুতি আছে বরিশালে রাজা পঞ্চম জর্জের আগমনকে স্মরণীয় করে তোলার লক্ষ্যে পার্কটি গড়ে তোলেন বেল সাহেব।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের  সময় এই মাঠেই মুক্তিযোদ্ধাদের সমরশিক্ষা দিতেন বরিশালের সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল।

১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেন। বর্তমানে সেই স্থানটি  স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে করা হয়েছে একটি মুক্তমঞ্চ। সাতশ ৫০ ফুট লম্বা ও  পাঁচশ ৫০ ফুট প্রস্থ বেল'স পার্কটির নাম বদলে ১৯৯৬ সালে ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’ রাখা হয় ।

সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠ, চারদিকের ওয়াকওয়ে, বসার বেঞ্চ, ছোট বড় বাহারী বৃক্ষ,  লেক মিলিয়ে পার্কটি হয়ে উঠেছে অনন্য।

বর্তমানে এই জায়গাটি পরিণত হয়েছে বরিশালের একটি পর্যটন কেন্দ্রে। উদ্যানটি ঘেষেই শিশুদের জন্য করা হয়েছে গ্রিন সিটি পার্ক।
 

নানান অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন মেলার প্রাণকেন্দ্র এই উদ্যানটি।

Print Friendly and PDF
সর্বাধিক পঠিত