অন্য চোখে

শিলা আক্তার মৌ (১৫), ঢাকা

Published: 2017-01-01 21:27:38.0 BdST

‘এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে/তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে’-লাইন দুটি কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত বহুল পঠিত ‘কবর’ কবিতায় দাদু তার নাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। কবির কবরটিও রয়েছে ডালিম গাছের তলে।

পল্লীকবি নামে খ্যাত এই কবির কবিতায় জায়গা পেয়েছে গ্রামীণ জীবনের ছবি। নকশি কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট তার বিখ্যাত রচনা। ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি কবির ১১৪ তম জন্মবার্ষিকী। 

মাটি ও মানুষের জীবনালেখ্য তার কবিতায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। পল্লীর মানুষের আশা, স্বপ্ন, আনন্দ, বেদনা ও বিরহ-মিলনের এমন আবেগ ও মধুর চিত্র খুঁজে পাওয়া ভার।  

জসীমউদ্দীন ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে ১৯০৩ সালের পহেলা জানুয়ারি জন্ম নেন। আজ

তার বাবার নাম আনসার উদ্দীন মোল্লা এবং মায়ের নাম আমিনা খাতুন। পিতা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন।

শৈশবে ফরিদপুর হিতৈষী স্কুলে কবির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। তারপর ১৯২১ সালে জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন। রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। আর ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।  

কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন। পরে ১৯৪৪ সালে সরকারের প্রচার ও জনসংযোগ বিভাগে নিয়োগ পান।   

জসীমউদ্দীনের কবিত্বশক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্র জীবনেই। তখন থেকেই তিনি তার কবিতায় পল্লীর প্রকৃতি ও জীবনের সহজ সরল সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার ‘কবর’ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনে অন্তর্ভূক্ত হয়। আর ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থটি নানান  বিদেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তার অন্যান্য জনপ্রিয় ও সমাদৃত গ্রন্থ হচ্ছে, বালুচর, ধানক্ষেত, রঙিলা নায়ের মাঝি।   

সাহিত্যে তার অবদানের কারণে ১৯৬৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে। এছাড়া সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

পল্লিকবি জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্য এক অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গিয়েছেন। পহেলা জানুয়ারি তার  সালের ১৪ মার্চ মারা যান এই মরমী কবি।

Print Friendly and PDF
সর্বাধিক পঠিত