খবরাখবর

রহিম শুভ (১৬), ঠাকুরগাঁও

Published: 2017-07-04 00:15:57.0 BdST

সিফাত আল রেজা ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সকাল ৭টায় স্কুলে যায় ও। ১১টায় ছুটির পর বাসায় এসে আবার কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়। বেলা ১২টায় কোচিং শুরু হয়ে দুপুর ৩টায় শেষ হয়। 

একটু বিশ্রাম নিতেই ৫টায় চলে আসেন গৃহ শিক্ষক। দুই ঘণ্টা পর গৃহ শিক্ষকের পড়া শেষ হলে নাস্তা করেই বসতে হয় আবার পড়ার টেবিলে। এত কিছুর মাঝে একটু  খেলা-ধুলা বা অন্য বিনোদনের সুযোগ হয় না বলে জানায় ও। 

তবে বিশ্রামের সময় মোবাইল ফোনে গেমস খেলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে ও।

কয়েকজন শিশু ও অভিভাবক জানায়, ঠাকুরগাঁও শহর থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ইট, বালু, পাথরের আড়ালে আটকা পড়ছে শিশুর শৈশব। 

গ্রামের শিশুরা খেলাধুলার কিছুটা সুযোগ পেলেও, শহরের শিশুদের সে সুযোগ কম। এমনকি শহরের স্কুলগুলোতেও এখন মাঠ প্রায় নেই বললেই চলে।

ঠাকুরগাঁও শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাজিদ আল রেজা বলে, "সারাদিন স্কুল, কোচিং করার পর আর খেলতে ইচ্ছে হয় না। তাই সময় পেলেই মোবাইলে গেমস খেলি ও ফেইসবুকে আড্ডা দেই।"

নাজির উদ্দিন নামের একজন অভিভাবক জানান, শহরে এখন খেলার মাঠ দেখাই যায় না। তাছাড়া পড়া লেখায় প্রতিযোগিতার হওয়ার কারণে শিশুরা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। তাই বাড়িতে যেটুকু সময় পাচ্ছে মোবাইল ও কম্পিউটারের গেমস বা ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোলাম কিবরিয়া মন্ডল বলেন, "আমরা এখন একটা পরিবর্তনের ট্রানজিশনাল স্টেজে আছি। মর্ডান হচ্ছি, উন্নয়ন হচ্ছে, প্রযুক্তিতে উন্নত হচ্ছি। এই অবস্থায় যেকোনো সমাজের ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিজ ঘটে। মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা বেড়ে যায়। এই অবস্থায় মানুষ সমাজের সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারে না। উন্নয়নের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে নিয়ম-কানুন দরকার হয় সেটা বুঝতে পারে না। একটা জিনিস কতটুকু ব্যবহার করতে পারবো তার একটা সীমানা থাকা দরকার হয় কিন্তু সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে না।"

Print Friendly and PDF
সর্বাধিক পঠিত