খবরাখবর

আমিনুর রহমান হৃদয় (১৭), ঠাকুরগাঁও

Published: 2017-03-01 20:00:05.0 BdST Updated: 2017-03-01 20:28:17.0 BdST

ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন নদীতে নির্মিত দুটি রাবার ড্যামের সুফল পেতে শুরু করেছে কৃষক ও জেলেরা।

ইতিমধ্যে রাবার ড্যাম নির্মাণের কারণে নদীর দু ধারে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে। আর নদীতে পানি থাকায় ধরা পড়ছে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনী রাবার ড্যাম ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রাণীরঘাট রাবার ড্যাম এলাকায় দেখা যায়, চলতি খরা মৌসুমে ড্যামের রাবার ফুলিয়ে টাঙ্গন নদীতে মজুদ করে রাখা পানি দিয়েই পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনি, বাঁশগাড়া, চাপোড়, মছলন্দপুর, মশালডাঙ্গী, শিরাইল, জগন্নাথপুর, চান্দোহর এবং বোচাগঞ্জ উপজেলায় সুলতানপুর, সেনিহারি, ফুটকিবাড়ি, রানীরঘাটসহ নদীর দুধারে প্রায় ২০ গ্রামের বিশাল এলাকা জুড়ে জমিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকরা।

রহমত আলী নামের এক কৃষক বলেন, “আগে খরা মৌসুমে নদীতে পানি থাকতো না। শ্যালো মেশিন চালু করেও পানি লেয়ার পাওয়া যাচ্ছিল কম।

“অধিক তেল পুড়িয়ে জমিতে সেচ দিতে হতো। এখন রাবার ড্যামের কারণে নদীতে পানি থাকছে। সহজেই পানি পাওয়া যাচ্ছে আর আমরা কৃষকরা যে কোনো ধরনের ফসল সহজেই চাষ করতে পারছি।”

মোস্তফা আলম নামে আরেক কৃষক বলেন, নদীর ধারের জমিগুলোতে খরা মৌসুমে পানির অভাবে চাষ করা যাচ্ছিল না। জমিগুলো পড়ে থাকতো। কিন্তু এখন রাবার ড্যামের কারণে এই জমিগুলোতে সব ধরনের ফসল চাষ করা যাচ্ছে।

পীরগঞ্জের সাগুনী রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পরিব উদ্দীন বলেন, গত বছর থেকে রাবার ড্যামে সুফল পেতে শুরু করেছে এলাকার লোকজন। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি রাবার ড্যামের সেচের আওতায় রয়েছে। কৃষকদের খরা মৌসুমে আর পানির কোনো সমস্যা হবে না।

বোচাগঞ্জের রাণীরঘাট পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, রাবার ড্যাম আমাদের এলাকার কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিছে। পানির অভাব নাই। ফসলও ভালো হচ্ছে। পানির জন্য আর কোন কৃষকের হাহাকার নাই।

রাণীঘাটেও প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওয়তায় এসেছে।

আবু হাসেম নামে এক জেলে বলেন, টাঙ্গন নদীতে এখন প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। যারা মাছ ধরে সংসার চালায়, তারা খুব উপকৃত হয়েছে।

রাবার ড্যামের কারণে ইদানিং টাঙ্গন নদী থেকে দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানালেন পীরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ইসমত আরা।

তিনি বলেন, খরা মৌসুমে রাবার ড্যাম নদীতে দুই-তিন মাস পানি ধরে রাখছে। এই মৌসুমে অনেক দেশীয় মাছ ডিম ছাড়ে। এর ফলে দেশীয় মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এবিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাবার ড্যাম এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর উপরে উঠে এসেছে। এর কারণে টাঙ্গন নদীর দুধারের জমিতে এখন যেকোন ধরনের ফসলের দ্বিগুণ ফলন হবে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত