খবরাখবর

পৃথা প্রণোদনা (১৪), ঢাকা

Published: 2017-02-26 20:32:35.0 BdST

সিলেট জেলার গোয়াইন ঘাটের জাফলং এ পাথর তোলার কাজ করছে অনেক শিশু।

জাফলং এর ওপর পাশে ভারতের ডাওকি অঞ্চল। ডাওকি অঞ্চল থেকে পাহাড়ী নদী নেমে এসেছে জাফলং এর উপর দিয়ে। এ নদীটির নাম পিয়াইন নদী। বর্ষাকালে ভারতীয় সীমান্তবর্তী শিলং মালভূমির পাহাড়গুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে, এসব পাহাড় থেকে ডাওকি নদীর প্রবল স্রোত বয়ে আনে বড় বড় গণ্ডশীলা। এ কারণে জাফলং এর নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাথর পাওয়া যায়। এর ফলেই এলাকার মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে পাথর ঘিরে।

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক শ্রমজীবী শিশু।

সম্প্রতি পিয়াইন নদীর বালুচরে শুয়ে থাকা শিশু ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে হ্যালো। তাদের বয়স ছয় থেকে ১২ এর মধ্যে।

একটু এগিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে পাশে থাকা লোকটি কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নাম জিজ্ঞেস করলে তা এড়িয়ে তিনি বলেন, “সবাই জাফলং এর বাসিন্দা।”

গরম বালিতে যেখানে পা রাখাই কষ্টকর সেখানে শিশুরা কেন উপর হয়ে শুয়ে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ এরা সবাই নদী থেকে পাথর তোলার কাজ করে।”

সারাদিন পাথর তুলে তারা তিনশ থেকে চারশ টাকা পায়। টাকা ভালো পেলেও নদীর ঠাণ্ডা পানিতে কাবু হয়ে যায় অনেকেই।

লোকটি জানান, নদীর পানি এত ঠাণ্ডা যে এই শিশুরা দুই ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারে না। তাই শরীর গরম করতে বালির উপর শুয়ে থাকে।

এরা স্কুলে যায় কিনা জানতে চাইলে তাদের অভিভাবক নিশ্চুপ থাকেন।

বালুচরে মার সাথে পাথর বাছা ও তা টুকরিতে তুলে দেওয়ার কাজ করছিল তাহমিনা।

বয়স তার সাত বছর। ও জানায়, এই কাজ অনেক কষ্টের হলেও, তার মাকে সাহায্যে করতে ভালো লাগে। তাই সে সারাদিন মার সাথে এই কাজ করে।

বালি ও পাথরে কাজ করার ফলে তার কাশির সমস্যা হয়। বছর খানেক সে এনজিওর স্কুলে গেলেও এখন আর লেখাপড়া করে না।

গল্পে গল্পে তাহমিনা জানায়, বড় হয়ে ও ‘ডাক্তার আপা’ হবে। এটা বলেই সে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।

বালুচরে অনেক দূর থেকে টুকরিতে করে পাথর এনে এক জায়গায় রাখছিল এক শিশু। বয়স নয় হবে। ওর নাম বেলাল।

সারাদিন কাজ করে ও চারশ টাকার মতো। পাথরের ভাড়ে মাঝে মাঝেই মাথা ও হাতে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পায়।

বাড়িতে বাবা-মা অসুস্থ। সে কাজ না করলে পরিবার চলবে না। ছোট বলে পারিশ্রমিকও কম পায় সে।

জাফলং এর বালুচরে বড় পাথর তুলতে বাবাকে সাহায্যে করছিল রুবেল। বয়স ছয় বা সাত। বালি সরিয়ে ভেতর থেকে বড় পাথর বের করে আনাই তার কাজ।

রুবেল জানায়, স্কুলে যেতে তার খুব ভালো লাগে। জাফলং প্রাইমারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

স্কুল ফেলে কাজে কেন? প্রশ্ন করলে রুবেল তার বাবা হাফিজ উদ্দিন এর দিকে তাকিয়ে থাকে।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, “সংসারে অভাব। তাই ছেলেকে দিয়ে কাজ শিখাচ্ছি।”

পুরো জাফলং এ রুবেল, তাহমিনা ও বেলাল এর মতো শতাধিক শিশু পাথর শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।

জাতীয় শিশুশ্রম নীতি ২০১০ এ শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শিশুকে অসামাজিক এবং অমর্যাদাকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

Print Friendly and PDF
সর্বাধিক পঠিত