খবরাখবর

সজিবুল হাসান (১৭), মানিকগঞ্জ

Published: 2017-02-07 15:57:11.0 BdST Updated: 2017-02-07 15:57:11.0 BdST

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সরিষা ক্ষেতের আশেপাশে মৌচাষ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার ফলন আরও ভালো হবে বলে আশা করছেন উপজেলার  ‍কৃষি কর্মকর্তা ও চাষীরা।

উপজেলা ‍কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, মৌমাছি সরিষার ফুলকে অধিক হারে পরাগায়নে সাহায্য করে। পরাগায়ন বেশি হলে সরিষার ফলনও বেড়ে যায়। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

শিবালয়ের কয়েকটি গ্রামের সরিষা ক্ষেত ঘুরে ও চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যায়, সরিষার ফলন আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। চাষের খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখছেন তারা। এ কারণে সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন এলাকার অধিকাংশ কৃষক।

কথা হলে উপজেলার বরংগাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালেব বলেন, “হুনছি (শুনেছি) ক্ষেতে মৌমাছির বাক্স ফালানের (স্থাপনের) জন্যে নাকি গত বৎসর সরষ্যার ফলন অনেক ভালো হইছে, তাই এবছর আমিও সরষ্যা বুনছি। দেহি কি অয়।”

একই গ্রামের আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, “আগে এক পাহি (বিঘা) জমিতে পাঁচ-ছয় মণ সরষ্যা হইত, আর এহন সেই একই জমিতে সাত-আট মণ সরষ্যা অয়। খরচ উইঠা (পুষিয়ে) লাভও অয় ভালোই।”

উপজেলা ‍কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলার পাঁচ হাজার সাতশ ৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সরিষা ক্ষেতের আশেপাশে এক হাজার ৪৩টি মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব মৌ বাক্স থেকে ৭০০০-৮০০০ কেজি মধু আহরণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সরিষার ক্ষেতে মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষি মোজাফফর হোসেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। প্রতি বছর মৌচাষের জন্য এ এলাকাকেই বেছে নেন তিনি।

কথা হলে তিনি বলেন, “ এ এলাকায় সরিষার চাষ বেশি বলে মধুর উৎপাদনও বেশি হয়। তাই প্রতি বছরই এখানে আসি।”

প্রতি সপ্তাহে গড়ে তার ৩০-৪০ মণ মধু উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কথা হলে শিবালয় উপজেলা ‍কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মৌচাষ বেড়ে যাওয়ার কারনে শিবালয়ে প্রতিবছরই সরিষার উৎপাদন বাড়ছে। এ বছরও সরিষার উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়’।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত