কথায় কথায়

সোয়াইব সামীহ্ পূর্ণ (১৬), ঢাকা

Published: 2017-01-15 20:40:58.0 BdST Updated: 2017-01-15 21:05:32.0 BdST

জুনায়েদ ধীমান ঢাকা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি ও যে কাজটি করতে খুব ভালোবাসে সেটা হলো জাদুবিদ্যা চর্চা ও তা অন্যদের দেখান। ভবিষ্যতে জুনায়েদ জাদু নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে ও নিজের নিজের জাদু সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায়। উদীয়মান এই জাদু তারকার সাথে একান্তে কিছু কথা হয় হ্যালোর।

হ্যালো-ছোটোবেলায় কেমন ছিলে?

জুনায়েদ-অন্য স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতোই দুষ্টু আর চঞ্চল ছিলাম।

হ্যালো-দুষ্টু ও চটপটে শিশুদের ব্যাপারে তুমি কী ভাবো?

জুনায়েদ-সাধারণত দুষ্টু ও চটপটে বাচ্চাদেরই আমার পছন্দ। এদের সঠিক পরিবেশ দিতে পারলে খুব সহজেই তারা যে কোনো কিছু বুঝতে পারে বলে আমার ধারণা।

হ্যালো-তোমার জীবনের স্বপ্ন কি?

জুনায়েদ-ক্লাস সিক্স থেকেই হিউম্যান সাইকোলোজি নিয়ে পড়া শুরু করি। তখন থেকেই বিষয়টির প্রতি আগ্রহ বাড়ে। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি নিয়েই পড়ার ইচ্ছে। আর দ্বিতীয় ভাবনা, জাদু নিয়ের কাজ করব।

হ্যালো-তোমার বাবা-মা এই ইচ্ছে নিয়ে কী বলেন?

জুনায়েদ-মা আমার সব কাজের সাথেই থাকেন। তিনি বলেন, ‘তোর যা ইচ্ছা তুই তাই করিস।’ তারা দুজনই চান, যাই করি না কেনো, যেন ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে উঠি।

হ্যালো-একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য কী কী গুণ থাকা দরকার বলে তুমি মনে কর?

জুনায়েদ-জীবনে শৃংখলাবোধ ও সততা নিঃসন্দেহে একজন আদর্শ মানুষের প্রধান দুটি গুণ।

হ্যালো-যাদুর প্রতি আগ্রহটা কবে থেকে?

জুনায়েদ-আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম তখন সমাপনী পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর মা আমাকে কম্পিউটার কিনে দেন। সেখানে ইউটিউবের একটা জাদু আমাকে প্রভাবিত করে। আর পরে জানলাম জাদুর কৌশলও ইউটিউবেই দেওয়া আছে। সেখান থেকেই কৌশলগুলো শিখতে থাকলাম।

হ্যালো-জাদুর প্রতি এই ভালোবাসার কারণটা কী?

জুনায়েদ-জাদু দেখালে সবাই আনন্দ পায়। আর সবাই আনন্দ পেলে আমিও আনন্দ পাই।

হ্যালো-তোমার প্রিয় জাদুকর কে?

জুনায়েদ-আমার প্রিয় জাদুকর আমি নিজেই। কারণ প্রতিদিন আমি আয়নার সামনে জাদুর চর্চা করি আর নিজের ভুল থেকে শিখি।

হ্যালো-জাদু দেখাতে গিয়ে কোন বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়?  

জুনায়েদ-মানুষের স্বভাব হচ্ছে জাদু দেখার সময় এর আনন্দটা না নিয়ে এর রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করা। এটা তো একটা কৌশল মাত্র। সেখানে ভুল হতেই পারে। তাই নির্ভুল প্রদর্শনের জন্য খুব সতর্ক থাকতে হয়।

হ্যালো-জাদু দেখান নিয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতা আছে?

জুনায়েদ-গোড়ার দিকে একবার ক্লাসে জাদু দেখাতে গিয়ে একটা ভুল করায় সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করেছিল। সেটা আমার খুব খারাপ লেগেছিল।

হ্যালো- এখন এত চমৎকার জাদু দেখাও কীভাবে?

জুনায়েদ-জাদুকে ভালোবাসা আর অবিরাম চর্চা। আমি যখনই কোনো জাদুচর্চা করি, নিজেকে বলি, আগামীকাল এর চেয়েও ভালো করতে হবে।

হ্যালো-জাদুর ব্যাপারে কারও অনুপ্রেরণা আছে?

জুনায়েদ-সত্যি কথা বলতে আমি কারও অনুপ্রেরণা পাইনি। ইউটিউব থেকে জাদু দেখে আমি বিমোহিত হয়ে যাই। আর ঠিক করি, এটা শিখবই।

হ্যালো-তোমার চোখে পুরু চশমা। চশমা ছাড়া কিছুই দেখতে পাও না? পাওয়ার কত?

জুনায়েদ-না, চশমা ছাড়া আমি কিছুই দেখতে পাই না। এমনকি দুই ইঞ্চি দূরের কিছুও না। মাইনাস সাত আমার চশমার পাওয়ার।  

হ্যালো-প্রতিকুল অবস্থায় নিজেকে সামাল দাও কীভাবে?

জুনায়েদ-উত্তেজিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় কাউকে কষ্ট না দিয়ে সিদ্ধান্ত নিই।

হ্যালো-মানুষের কোন গুণটি তোমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে?

জুনায়েদ-সত্য কথা বলা। এটা শুধু বইয়ের কথা নয়, আমার উপলব্ধির কথা।

হ্যালো-কখনও স্কুল পালিয়েছ?

জুনায়েদ-স্কুল থেকে পালাইনি তবে স্কুলের নাম করে স্কুলে যাইনি, এমন হয়েছে।

হ্যালো-সিলেবাসের পড়াশোনা করতে ভালো লাগে?

জুনায়েদ-বুঝতে পারলে ভালো লাগে। না বুঝে মুখস্থ পড়া ভালো লাগে না।  

হ্যালো-রেজাল্ট খারাপ করে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ব্যাপারটি নিয়ে তোমার ভাবনা কেমন?

জুনায়েদ-যারা এই কাজটা করে তারা আমার মনে হয় মানসিকভাবে অসুস্থ। আর যদি অভিভাবকের প্রতি ভয়ের কারণে এটা ঘটে, তাহলে সেই অভিভাবকদেরও আমি অসুস্থ বলব। কারণ তারা যদি একটা সার্টিফিকেটের গ্রেডেশানকে জীবনের চেয়ে বেশি দাম দেন, আমার মতে সেটা মোটেও সুস্থ্যতা নয়।

হ্যালো-স্কুলের দিনগুলো কেমন ছিল?

জুনায়েদ-আমার কাছে স্কুলের দিনগুলোই সেরা দিন। আমি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে পড়তাম। সেখানে নিয়ম-কানুন খুব কড়া ছিল আর সেই কিছু নিয়ম ভাঙতেও অন্যরকম এক মজা ছিল।

হ্যালো-ছাত্রজীবনের টার্নিং পয়েন্ট মনে করো কোন সময়টাকে?

জুনায়েদ-আমার মতে এটা উচ্চমাধ্যমিকের সময়টা। কারণ এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর শিক্ষার্থীর উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পায় বা হারায়।

হ্যালো-ভবিষ্যতে জাদু নিয়ে কী করতে চাও?

জুনায়েদ- আমরা ছয়জন বন্ধু মিলে একটি প্রকল্প শুরু করতে চাই। এটার নাম হবে ‘ডিসেপটিভ থিওরি’। এতে জাদু নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা আর জাদুকে আরও গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করা হবে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় জাদু দেখাব।

ইউটিউবসহ ফেইসবুকেও এগুলো আপলোড করে দেওয়ার কথা ভেবেছি আমরা।

হ্যালো-হ্যালোকে সময় দেওয়ার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এগিয়ে যাও।

জুনায়েদ-তোমাকেও ধন্যবাদ।    

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • আনুমানিক দুইশ বছরের পুরনো আমগাছ

    ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় দুই বিঘা জুড়ে আছে একটি আমগাছ। দেখলে মনে হয় বিরাট এক আম বাগান। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই মহীরূহের বয়স আনুমানিক দুইশ বছরের কম নয়।

  • ধিক্কার: বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরকে অবহেলা করেছিল যারা

    শুধু রাজনীতি নয়, সংবাদপত্রের কাজের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধুর সম্পৃক্ততা ছিলো। জীবনের কর্মযজ্ঞে কখনও পত্রিকার মালিক, কখনও সাংবাদিক, কখনও পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি, কখনও বা পরিবেশক ছিলেন তিনি। দরকারে হকারিও করেছেন।

  • দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি রফিকুলকে

    কুড়িগ্রামের রফিকুল ইসলাম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা রিসাইকেল করে তিনি নিত্য ব্যবহারের জিনিস তৈরি করে বাজারজাত করছেন।