কথায় কথায়

পৃথা প্রণোদনা (১৪), ঢাকা

Published: 2016-12-04 15:24:20.0 BdST Updated: 2017-01-02 21:58:56.0 BdST

স্পেশাল এডুকেশন টিচার অ্যান্ড সাইকোলজিস্ট মাহমুদা খাতুন। ২০১০ সাল থেকে কাজ করছেন অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে। প্রতিবন্ধী দিবসে অটিস্টিক শিশুদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা হয় হ্যালোর।

হ্যালো: কত দিন ধরে আপনি অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন?

মাহমুদা খাতুন: ২০১০ সাল থেকে আমি কাজ করছি স্পেশাল শিশুদের নিয়ে। মূলত ২০১১ সাল থেকে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করা শুরু করি।

হ্যালো: অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আপনি কতটুকু আনন্দ পান?

মাহমুদা খাতুন: আমি ওদের সাথে খুব আনন্দের সাথে কাজ করি। যখন এইসব শিশুদের সমস্যাগুলোর কিছুটা হলেও উন্নতি দেখতে পাই, তখন আমার খুব ভালো লাগে।

হ্যালো: এই শিশুরা সমাজে কোন ধরনের সমস্যায় বেশি পড়ে?

মাহমুদা খাতুন: ওদেরকে সহজেই কেউ মেনে নিতে পারে না। প্রথমে পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশু অবহেলিত হচ্ছে। কেউ তাদের যত্ন নিতে চায় না। সবাই মনে করেন যে, এদের দিয়ে কিছু হবে না, তাই যত্ন নিয়ে কী হবে। অনেক পরিবারে শিশুদের মৌলিক অধিকার থেকেই বঞ্চিত করছে। সমাজের আর দশজনও এই একই ধরনের কাজ করছে।

হ্যালো: আমাদের সমাজের অটিস্টিক শিশুরা কী কী সুবিধা পাচ্ছে?

মাহমুদা খাতুন: সরকারিভাবে এখন ওরা অনেক সুবিধা পাচ্ছে। যাদের বাবা-মা নেই সরকার তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে। এছাড়াও সরকার এখন মাসিক ভাতা প্রদান করেন এসব শিশুদের জন্য।

হ্যালো: আমাদের সমাজের মানুষেরা অটিস্টিক শিশুদের কতটুকু গুরত্ব দেন?

মাহমুদা খাতুন: এখনও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তেমন গড়ে ওঠেনি। অনেক শিক্ষিত মানুষ মনে করেন, এদের সাথে মিশলে তাদের সন্তানেরা এরকম হয়ে যাবে বা কোনো সমস্যা হবে। অশিক্ষিত মানুষের মধ্যেও এরকম দেখা যায়। তাদের ধারণা, মা-বাবার পাপের কারণে এরকম সন্তান জন্ম নেয়।

হ্যালো: এই শিশুদের সাথে আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

মাহমুদা খাতুন: এদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। এদেরকে ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে কাজ করাতে হবে। যখন ওদের মনে বিশ্বাস গড়ে তোলা যাবে, তখন ওদের আচরণ কিছুটা হলেও পরিবর্তন হবে।

হ্যালো: ভবিষ্যতে আমরা অটিস্টিক শিশুদের জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি?

মাহমুদা খাতুন: সবার মধ্যে সচেতনতা আনতে হবে। এজন্য আমাদের মা-বাবাকে বোঝাতে হবে যে, এদেরকে অবহেলা করা যাবে না, এদের মধ্যে অনেক ধরনের প্রতিভা আছে এবং সেই প্রতিভাগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে। পরিবারের সবাই যদি ওদেরকে মেনে নেন এবং স্নেহ করেন তবে সমাজের আর দশজন মানুষও ওদেরকে ভালোবাসবে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত