কথায় কথায়

শেখ শরফুদ্দিন রেজা (১৭), ঢাকা

Published: 2016-11-15 21:42:34.0 BdST Updated: 2016-11-15 21:42:34.0 BdST

ভি থাকে ভিয়েতনামে। রাজধানী হ্যানয়ের চাও গিয়ের নগুয়েন তাত থান’হ হাই স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে ও। ১৪ বছরের ভি-র সঙ্গে কথা হয় হ্যালোর। তার জীবন যাপন, শিক্ষা, দেশের নারী স্বাধীনতাসহ অনেক কিছু নিয়ে কথা বলে ও।

হ্যালো: তোমাদের অভিভাবকরা কি শিশুদের শাস্তি দেয়?

ভি: অবশ্যই শাস্তি দেয়। কিন্তু বাজেভাবে আঘাত করে বা চিৎকার করে নয়। দুটোই শিশুদের খুব খারাপ প্রভাব ফেলে।

হ্যালো: তোমরা কী ধরণের খেলাধুলা করতে পছন্দ কর? 

ভি: ছেলেরা সব সময় ফুটবল, ক্যারাটে খেলে। মেয়েরা দড়ি লাফ, রান্নাবাটির মতো খেলাধুলা করে। তবে এখানে আমরা চাইলেই ব্যাডমিন্টন খেলতে পারি। আমি ছেলেদের খেলা খেলতেই ভালোবাসি। হা হা হা।

হ্যালো: তোমরা কি রোজ নিয়ম করে খেল?

ভি: না সবাই খেলতে পারে না। অনেক শিশুরা স্কুলের পর বাবা-মাকে নানা কাজে সহায়তা করে।

হ্যালো: তুমি কি মেয়ে হিসেবে ভিয়েত নামে স্বাধীন?  

ভি: হ্যাঁ। ভিয়েতনামে আমি স্বাধীন মেয়ে। মেয়ে হিসেবে আইন মেনে আমি সব কিছুই করতে পারি যেমন, ভ্রমণ, খেলাধুলা, সাইকেলিং, একা স্কুলে যাতায়াত করাসহ সব। আমাদের দেশের মেয়েরা ছেলেদের মতোই সব কাজ করে। কিন্তু এখনও কিছু সংখ্যালঘু জাতিগত পরিবারের মেয়ে কিংবা মহিলাদের অধিকার নেই। তারা নিজেরা কিছুই করতে পারে না। পরিবারের পুরুষদের কথাতেই চলতে হয় তাদের। আমাদের দেশে এখানে বেশি লিঙ্গ বৈষম্য নেই। কিন্তু এখানে শুধুমাত্র পুরুষরা কঠিন পরিশ্রম করে। মহিলাদের ঘরের কাজ করতে হয়। কিছু পরিবার পুরুষদের মেয়েদের কাজ করতে সম্মতি দেয় না। 

হ্যালো: তোমার মূল আগ্রহ কিসে?

ভি: আমার মূল আগ্রহ হচ্ছে এনিমেশন।

হ্যালো: তুমি কী কী করতে পছন্দ কর?

ভিঃ আমি খেলাধুলা করতে অনেক ভালবাসি। জাপানের সংস্কৃতি শিখতে আমার কিছুটা আগ্রহ আছে। আমি ছবি আর পোস্টারে নকশা করতে পছন্দ করি। এটা আসলেই মজার। 

হ্যালো: তুমি কী মাঠে খেল?

ভি: হুম। যদি আমি চাই, আমি মাঠে খেলতে পারি। এ ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এখন যেহেতু প্রযুক্তি উন্নত, তাই আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করি আর চেষ্টা করি ইন্টারনেট থেকে নতুন কিছু শিখতে।

হ্যালো: তুমি কিভাবে ছুটির দিনগুলো কাটাও?

ভি: আমি সবসময় আমার পরিবারের সঙ্গে ছুটির দিন কাটাই। আমরা সবাই একসাথে ঘরে থাকি। কখনও আবার হ্যানয়ের বাইরে যাই।

হ্যালো: স্কুলের বাইরে আর কি কি কর?

ভি: আমি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানেও অংশ গ্রহণ করেছি। আমার স্কুল অনেক ইভেন্ট, উৎসব কিংবা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। আমি সেখানে অংশ নেই। যেমনঃ ইংলিশ ফেস্টিভ্যাল, বিজ্ঞান উৎসব।

হ্যালো: তুমি কি কোন অনুষ্ঠান থেকে পুরস্কার পেয়েছ?

ভি: আমি কিছু পুরস্কার পেয়েছি। আমি গত মাসে “আমি ভিয়েতনাম ইতিহাস ভালবাসি” নামক প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছি। পাশাপাশি, আমি প্রথম পুরস্কার পেয়েছি আমাদের দেশের একটি রিসাইক্লিং ইভেন্টে। জুলাইয়ে, আমি কোরিয়াতে আমার দলের সাথে দুটি পুরস্কার পেয়েছি আন্তর্জাতিক মহাকাশ ক্যাম্পে। দুটিই ছিল দ্বিতীয় পুরস্কার।

হ্যালো: তুমি কী আমাদের সাথে তোমাদের দেশের কোনো ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাও?

ভি: একদিন ভোর পাঁচটা থেকে সাইকেলিং করে, আমি আর আমার বন্ধুরা সকালে ব্যয়াম করেছিলাম। সেটা ছিল ওয়েস্ট লেকের চারপাশে। এটা আমাদের রাজধানীর একটা বিখ্যাত লেক। আমরা অনেক আনন্দ করেছি।

হ্যালো: তোমার স্বপ্ন কী?

ভি: আমি জাপানে যেতে চাই। কারণ, আমার মতে - সেখানে আমার জন্য সম্ভাবনা আছে। হতে চাই একজন শিক্ষক অথবা সাধারণ, এটাই আমার স্বপ্ন। আমি শুধু চাই এমন একজন হতে যে সব কিছু করতে পারবে এবং যেতে পারবে যেখানে খুশি।

হ্যালো: বাংলাদেশি যারা তোমার লেখা পড়বে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাও?

ভি: হাই, বাংলাদেশ আর বাংলাদেশী বন্ধুরা। এটা আমার জন্য আনন্দের যে আমি আমার জীবন ও দেশের নানা কথা তোমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরেছি। আমি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান। আমার প্রিয় বন্ধু আরিয়ান ও অন্য বাংলাদেশী বন্ধুদের পেয়ে আমি খুব খুশি। আমি বিশ্বাস করি যে তোমরা সবাই অনেক ভাল আর বন্ধুত্বপূর্ণ হবে। আমি আশা করি যে আমি বাংলাদেশ ভ্রমণে আসব আর দেখা করব অনেকের সাথে। তোমাদের স্বাগতম আমার সুন্দর দেশ ভিয়েতনামে।

হ্যালো:  হ্যালোকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

ভি: আমি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত