কথায় কথায়

রুহিন আহমেদ (১৭), সিলেট

Published: 2016-10-26 18:54:47.0 BdST Updated: 2016-10-26 19:19:22.0 BdST

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যে বয়সে নিষিদ্ধ, অঞ্জন দেব নামের শিশুটি সেই কাজ করছে। কামারের কাজের মতো শ্রমসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে পরিবারে সাহায্য করছে সিলেটের এই শিশু শ্রমজীবী। রোববারে ওর সাথে হ্যালোর কথা হয়।

হ্যালো- কেমন আছ, ভাইয়া?

অঞ্জন- ভাল আছি ভাই। আপনি কি কিছু বানাইতে দিবেন?

হ্যালো- না, তোমার দোকানে আমার কাজ নাই। আমি সাংবাদিক। তোমার সাথে কথা বলতে চাই। 

অঞ্জন- আচ্ছা ভাই, খাড়ান হাতটা ধুইয়া নেই।

হ্যালো- তোমার বয়স কত?

অঞ্জন- ১৩ বছর।

হ্যালো- বাড়ি কোথায়?

অঞ্জন- আমার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রায়ের গ্রাম।

হ্যালো- এখানে তুমি কি কর?

অঞ্জন- কাকার সাথে কামারের কাজ করি।

হ্যালো- কতদিন ধরে এখানে কাজ করছ?

অঞ্জন দেব- আমি প্রায় সাত মাস এখানে কাজ করছি।

হ্যালো- কেমন লাগে এই কাজ?

অঞ্জন- সারাদিন আগুনের পাশে থাকতে আর হাতুড়ি পিটাইতে খুব কষ্ট হয়।

হ্যালো- কেন করতে হচ্ছে এই কষ্টের কাজ?   

অঞ্জন- আমি ক্লাস ফোর থেকে ফাইভে পাস করতে পারিনি। পড়ালেখাতেও মন ছিল না। আর বাড়িতেও অভাব। তাই আর পড়া হয়নি।

হ্যালো- বাড়িতে কে কে আছেন?

অঞ্জন- মা-বাবা আর আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমার বড় ২ বোন। তারাও আমার মতন অভাবের কারনে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছে। আমার ছোট ভাই ক্লাস টু-তে পড়ে আর ছোট বোনের এখনও স্কুলে যাবার বয়স হয়নি।

হ্যালো- বাবা কি কাজ করেন?

অঞ্জন- বাবা চুল কাটার কাজ করে।

হ্যালো- তুমি কত টাকা পাও?

অঞ্জন- দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ টাকা পাই।

হ্যালো- কি কর তোমার টাকা?

অঞ্জন- সব টাকা  বাবাকে দিয়ে দিই।

হ্যালো- তোমার কোন কাজ ভালো লাগে?

অঞ্জন- বড় হয়ে সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা হয়।

হ্যালো- পড়ালেখা করতে কি মন চায়? সুযোগ পেলে পড়াশুনা করবে?

অঞ্জন- পড়াশুনা করতে খুব ইচ্ছা হয়। এখন পড়ার সুযোগ পেলে মন দিয়া পড়ব।   

হ্যালো- আচ্ছা ঠিক আছে। ভালো থেক। আবার দেখা হবে।

অঞ্জন- আচ্ছা ভাই, আপনিও ভাল থাইকেন। আবার আসবেন।  

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত