আমার কথা

শিলা আক্তার মৌ (১৫), ঢাকা

Published: 2017-04-05 19:30:36.0 BdST Updated: 2017-04-05 21:12:36.0 BdST

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। টানা নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই এখানে চলেছে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ। শহিদ হয়েছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ।  

স্বাধীনতার দীর্ঘ দিন পরে ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে কেরানীগঞ্জে স্থাপন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম কমান্ডার নামের একটি ভাস্কর্য। সেই জায়গাটি এখন নূর ইসলাম কমান্ডার চত্বর নামে পরিচিত। কিন্তু সময়ের সাথে অবহেলা ও অযত্নে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ভাস্কর্যটি।

এই ভাস্কর্য আজ ঢাকা পড়েছে পোস্টারে পোস্টারে। দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের চেতনাকেও যেন ঢেকে দিচ্ছে অশিক্ষা ও অজ্ঞানতার পোস্টার।     

ভাস্কর্যের চারপাশের রেলিঙের অনেকাংশই চুরি হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে ভাস্কর্যের দেওয়ালের টাইলস। পোস্টারে ছেয়ে গেছে এর দেওয়াল। এমনকি ভাস্কর্যের যে অংশে শহিদের নাম লেখা আছে সেটাও ঢেকে গেছে পোস্টারে।

আমি যুদ্ধ দেখিনি। তাই যারা যুদ্ধ করেছেন, দেখেছেন, তাদের কাছে শুনতে চাই সেই ঘটনা, বিশদে। 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহজাহান সে সময়ের কথা বললেন। তার কাছে শুনি, যুদ্ধের সময় অগণিত মানুষের মৃত্যু হয়। এলাকায় দেখেছেন বিভিন্ন স্থানে গণকবর। মুক্তি ছিনিয়ে আনা সহজ ছিল না। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত এই সোনার বাংলা। কেরানীগঞ্জেও বয়েছিল রক্তের বন্যা। তাই ২০১০ সালে শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নুর ইসলাম কমান্ডার ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয় বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বা চেতনাকে পরের প্রজন্মকে পৌঁছে দিতেও।   

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত