আমার কথা

মেফতাহুল জান্নাত মারিয়া (১৪), ঢাকা

Published: 2017-03-10 19:04:42.0 BdST Updated: 2017-03-11 19:37:18.0 BdST

ছবিঃ সংগৃহীত
কলকাতায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। কলকাতা ঠিক ঢাকার মতো হলেও প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে যাওয়ার উত্তেজনটা ছিল তুঙ্গে।

২০১৪ সাল। আব্বু হঠাৎ করে বললেন, আমরা কলকাতা বেড়াতে যাব। আমি ও আমার ছোটবোন তো বেজায় খুশি। সাথে যাবে বলে খালামণি ও ভাইবোনরা রাজি হলো।

২০ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে কলকাতা রওনা হই। সবাই ভেবেছিল পুরো রাস্তা মাস্তি করবে, কিন্তু খানিক বাদেই তাতে ভাঁটা পড়ল। সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেল!

আমি তখন রাতের বাংলাদেশকে আবিষ্কার করছিলাম। নদী, গাছপালা, হাইওয়ে রাস্তা মনে হচ্ছিল সব পেছন দিকে দৌড়াচ্ছে। আর সেদিনকার আকাশে ওঠা উজ্জ্বল গোলাকার চাঁদটি যাচ্ছিল আমাদের পেছন পেছন। সকাল ৮/৯টার দিকে আমরা যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকলাম। বিকাল ৫টায় কলকাতা শহরে পৌঁছে আমরা ‘ডিয়ার হোটেলে’ গিয়ে রুম নিলাম। একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে আমরা হোটেলের পাশের নিউ মার্কেটে যাই।

ঠিক আমাদের বাংলাদেশের নিউমার্কেটের মতোই লোকে লোকারণ্য একটি মার্কেট। সেখানে আমরা কলকাতার বিখ্যাত পানিপুরি আর পাওভাজি খাই। এত মজার একটা জিনিস আগে কখনও খাইনি। সেই স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে। সেদিন রাত ১১টা পর্যন্ত আমরা ঘোরাঘুরি করি।

পরদিন আমরা মহারাণী ভিক্টোরিয়ার বাড়ি দেখতে যাই। এরপর পাতাল ট্রেনে চড়ি আর হাওড়া ব্রিজ দেখতে যাই। বিভিন্ন এলাকা ঘোরাঘুরি আর শপিং চলে পুরো তিনদিন।

এরমধ্যে একদিন নামল বৃষ্টি। এই বৃষ্টি তো আমাদের পুরো আনন্দকেই মাটি করে ফেলেছিল। তবুও মজা করেছি। কিন্তু এই তিন দিন আমি নিজের দেশকে অনুভব করার চেষ্টা করেছি।

দেশকে যে ভালোবাসি দেশের বাইরে না গেলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না। ২৪ তারিখ রাত দশটায় ঢাকায় ফিরে আমার চিরচেনা বাংলাদেশ আর আমার এলাকা দেখে কেমন যেন একটা আবেগ কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল আমার দেশটাই তো অনেক সুন্দর। কলকাতা শহরের পরিবেশের তুলনায় আমাদের ঢাকা শহরের পরিবেশ বেশ উন্নত। সেখানকার মানুষ বেশ অপরিচ্ছন্ন এবং রাস্তাঘাটও অনেক নোংরা। সেখানকার মানুষ শৌচাগার ব্যবহারেও তেমন সচেতন নয়, সেদিক থেকে আমার দেশ কত এগিয়ে!

আমি অবশ্য তাদের বদনাম করছি না। তবে কলকাতাকে আমার ভিন্ন কিছু মনে হয়নি। তবে খুব মজা করেছি আমরা। মানুষগুলো অতিথিপরায়ণ। আর একটা কথা না বললেই নয়। কলকাতা শহর জুড়ে কেমন উৎসব উৎসব পরিবেশ। মন্দির, সাজসজ্জা বেশ দারুণ। আমি আবার ভারতে যাব, ঘুরে দেখব বিভিন্ন স্থাপত্যশিল্প।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • আনুমানিক দুইশ বছরের পুরনো আমগাছ

    ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় দুই বিঘা জুড়ে আছে একটি আমগাছ। দেখলে মনে হয় বিরাট এক আম বাগান। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই মহীরূহের বয়স আনুমানিক দুইশ বছরের কম নয়।

  • ধিক্কার: বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরকে অবহেলা করেছিল যারা

    শুধু রাজনীতি নয়, সংবাদপত্রের কাজের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধুর সম্পৃক্ততা ছিলো। জীবনের কর্মযজ্ঞে কখনও পত্রিকার মালিক, কখনও সাংবাদিক, কখনও পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি, কখনও বা পরিবেশক ছিলেন তিনি। দরকারে হকারিও করেছেন।

  • দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি রফিকুলকে

    কুড়িগ্রামের রফিকুল ইসলাম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা রিসাইকেল করে তিনি নিত্য ব্যবহারের জিনিস তৈরি করে বাজারজাত করছেন।