আমার কথা

নানজীবা খান (১৫), ঢাকা

Published: 2017-02-10 18:57:21.0 BdST Updated: 2017-02-10 18:57:21.0 BdST

কদিন আগে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ভারত আয়োজিত ১৭ দিনের ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম ভারতে। সেখানে বাংলাদেশসহ ১১টি দেশ অংশ নেয়। সেখানে ছিল ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, কাযাখস্থান, কিরকিস্থান, সিঙ্গাপুর,ভিয়েতনাম, রাশিয়া। সব দেশের ক্যাডেটদের সাথেই আমার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তাদের কাছ থেকে জেনেছি তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে।

যখন দেশের বাইরে গিয়ে অন্য সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মিশলাম তখন বুঝলাম তাদের সঙ্গে বাঙালির পার্থক্য। কতটা  আবেগ, ভালোবাসা আর স্নেহপরায়ণ আমরা তাদের সঙ্গে না মিশলে জানাই হতো না।

রাশিয়ার কথাই যদি বলি তাদের মধ্যে তেমন আবেগ নেই। কারো সাথে ঝগড়া হলে পরে যে তার রাগ ভাঙাতে হয় এটা তারা হয়তো জানেই না। একদিন দেখলাম রাশিয়ান একটা মেয়ে কাঁদছে। তার খুব মন খারাপ। অথচ পাশেই তার বন্ধুরা হুড়োহুড়ি করছে, খেলছে, গল্পও করছে।

আরেকদিন দেখলাম একজন রাশিয়ান ছেলে মন খারাপ করে একা বসে আছে। কিন্তু তাকে যে সান্ত্বনা দিয়ে নিজেদের মধ্যে নিয়ে তার মন ভালো করবে সেটা তাদের খেয়ালই নেই। বরং তার মন খারাপ দেখে আমাদের কষ্ট লাগছিল। আমরা তাকে আমাদের সাথে বসিয়ে খাবার খেলাম, কথা বললাম, তার মন ভালো করার চেষ্টা করলাম। আমরা কখনও কল্পনাই করতে পারি না যে একজন বন্ধু সাথে থাকা অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে নিজেরা ভালো থাকা যায়।

আরেকদিন কাযাখস্তানের একজন অফিসারের ক্যামেরার চার্জার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি খুব অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন কি করা যায়। আর এদিকে তার এই সমস্যার কথা শোনা মাত্রই আমরা অস্থির হয়ে তার জন্য চার্জার যোগাড় করার চেষ্টা করলাম। ভিয়েতনামের একজনের কাছ থেকে চার্জার এনে তাকে দিলাম। তিনি খুব খুশি হলেন।

আরেকদিন এক ভিয়েতনামের অফিসার রাস্তা ভুলে হারিয়ে গেলেন। অনেক সময় পরেও যখন তিনি ক্যাম্পে ফিরছিলেন না তখন বাঙালি অফিসারদের উদ্বেগ দেখে আমার বারবার মনে হলো, এই তো বাংলাদেশের ভালোবাসা। বাঙালিকে কি এমন না হলে মানায়?

আমরা হয়তো তাদের মতো এত উন্নত এখনও হইনি কিন্তু এটা মানতেই হবে যে আমরা বন্ধুপরায়ণ, ভালোবাসতে জানি। তার মানে এই নয় যে তারা ভালোবাসে না বা কাউকে সাহায্য করে না। তাদের প্রকাশটা অন্যরকম, আমাদের মতো এতটা নয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • আনুমানিক দুইশ বছরের পুরনো আমগাছ

    ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় দুই বিঘা জুড়ে আছে একটি আমগাছ। দেখলে মনে হয় বিরাট এক আম বাগান। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই মহীরূহের বয়স আনুমানিক দুইশ বছরের কম নয়।

  • ধিক্কার: বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরকে অবহেলা করেছিল যারা

    শুধু রাজনীতি নয়, সংবাদপত্রের কাজের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধুর সম্পৃক্ততা ছিলো। জীবনের কর্মযজ্ঞে কখনও পত্রিকার মালিক, কখনও সাংবাদিক, কখনও পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি, কখনও বা পরিবেশক ছিলেন তিনি। দরকারে হকারিও করেছেন।

  • দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি রফিকুলকে

    কুড়িগ্রামের রফিকুল ইসলাম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা রিসাইকেল করে তিনি নিত্য ব্যবহারের জিনিস তৈরি করে বাজারজাত করছেন।